স্বাধীনতা দিবসের বক্তব্য (কিছু কথা) 2020 - Independence Day Bengali Speech

স্বাধীনতা দিবসের বক্তব্য (কিছু কথা) - Independence Day Bengali Speech 

স্বাধীনতা দিবসের বক্তব্য (কিছু কথা) - Independence Day Bengali Speech

১৫ আগস্ট ভারতের স্বাধীনতা দিবস


আগামীকাল আমাদের দেশ ভারতবর্ষের স্বাধীনতার ৭৩ বছর পূর্ণ হতে চলেছে। আগামীকাল আমরা ৭৪ তম স্বাধীনতা দিবস উদযাপন করব। জাতীয় গৌরবের এই উপলক্ষে আমি সমস্ত সকলকে অভিনন্দন জানাচ্ছি। ১৫ই আগস্ট প্রত্যেক ভারতবাসীর জন্য পবিত্র দিন। তা তিনি দেশে থাকুন, কিংবা বিদেশে। এই দিন, আমরা সবাই নিজের নিজের ঘরে, বিদ্যালয়ে, মহাবিদ্যালয়ে, কার্যালয়ে, নগর এবং গ্রাম পঞ্চায়েতে, সরকারী এবং বেসরকারী ভবনে উৎসাহের সঙ্গে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করি। ত্রিবর্ণরঞ্জিত পতাকা আমাদের দেশের আত্মমর্যাদার প্রতীক। এই দিন আমরা দেশের সার্বভৌমত্বের উৎসব উদযাপন করি। আর আমাদের সেই পূর্বসূরীদের অবদানকে কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করি, যাঁদের প্রচেষ্টায় আমরা অনেক কিছু পেয়েছি। এই দিন, দেশ গঠনে সমস্ত আরব্ধ কাজ সম্পন্ন করার শপথগ্রহণের জন্যও বটে, যা আমাদের প্রতিভাবান তরুণ-তরুণীরা অবশ্যই সম্পন্ন করবেন।

স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে বক্তৃতা 

১৯৪৭ সালে ১৪ এবং ১৫ই আগস্টের মাঝামাঝি সময়ে মধ্যরাতে আমাদের দেশ স্বাধীনতা পায়। এই স্বাধীনতা আমাদের পূর্বসূরী এবং সম্মানিত স্বাধীনতা সংগ্রামীদের অনেক বছরের আত্মত্যাগ ও বীরত্বের ফসল। স্বাধীনতাসংগ্রামে যোগদানকারী সমস্ত বীর ও বীরাঙ্গনা অসাধারণ সাহস এবং দূরদৃষ্টির অধিকারী ছিলেন। এই লড়াইতে দেশের সমস্ত ক্ষেত্রের, সমাজের সমস্ত বর্ণ ও সম্প্রদায়ের লোক সামিল হয়েছিলেন। তাঁরা চাইলে তো অনেক স্বাচ্ছন্দ্যে জীবন কাটাতে পারতেন। কিন্তু দেশের প্রতি নিজেদের অবিচল নিষ্ঠার কারণেই তাঁরা সেটা করেননি। তাঁরা এমন এক স্বাধীন ও সার্বভৌম ভারত গড়ে তুলতে চেয়েছিলেন, যেখানে সমাজে সাম্য ও সৌভ্রাতৃত্ব থাকবে| আমরা তাঁদের অবদানকে সবসময় স্মরণ করে থাকি। 

স্বাধীনতা দিবস নিয়ে কিছু কথা

আমরা ভাগ্যবান যে এমন এক দেশপ্রেমের ঐতিহ্য উত্তরাধিকার সূত্রে পেয়েছি। তাঁরা আমাদের হাতে এক স্বাধীন ভারত সঁপে দিয়ে গেছেন। একইসঙ্গে কিছু কাজ আমাদের জন্য রেখে গেছেন, যা আমরা সবাই মিলে সম্পন্ন করব। দেশের উন্নতি করা, দারিদ্র্য ও অসাম্য থেকে দেশকে মুক্ত করার গুরুত্বপূর্ণ কাজ আমাদের সবাইকে করতে হবে। এই কাজ সম্পন্ন করার লক্ষ্যে জাতীয় জীবনের প্রতিটি পদক্ষেপই সেই সমস্ত স্বাধীনতা সংগ্রামীদের প্রতি আমাদের শ্রদ্ধাঞ্জলি।



যদি আমরা শুধুমাত্র স্বাধীনতার রাজনৈতিক অর্থ গ্রহণ করি তাহলে মনে হবে, আমরা যেন, ১৯৪৭-এর ১৫ই আগস্টেই আমাদের লক্ষ্য পূরণ করে ফেলেছি। সেদিন আমরা বিদেশী শাসকদের বিরুদ্ধে লড়াইতে সফল হয়েছিলাম এবং স্বাধীন হয়েছিলাম। কিন্তু স্বাধীনতা প্রসঙ্গে আমাদের ভাবনা-চিন্তা অনেক ব্যাপক। এর কোন বাঁধাধরা এবং সীমিত অর্থ হয় না। স্বাধীনতার সীমানা বৃদ্ধি করা তো এক ধারাবাহিক প্রক্রিয়া। 

আরো পড়ুন, স্বাধীনতা দিবসের শুভেচ্ছা

 

আমাদের কৃষকরা কোটি কোটি দেশবাসীর জন্য অন্ন উৎপাদন করেন, যাঁদের সঙ্গে কখনই হয়তো তাঁদের দেখা হয়নি। তাঁরা দেশের জন্য খাদ্য সুরক্ষা এবং পুষ্টিকর খাবারের ব্যবস্থা করে আমাদের স্বাধীনতাকে শক্তিশালী করে যাচ্ছেন। আমরা যখন তাঁদের ক্ষেতের উৎপাদনশীলতা এবং আয় বাড়ানোর জন্য আধুনিক প্রযুক্তি ও অন্য সুবিধাগুলি সহজলভ্য করানোর ব্যবস্থা করি,তখন আমরা সত্যিই স্বাধীনতা সংগ্রামীদের স্বপ্নের ভারত গড়ে তুলি।




আমাদের সশস্ত্র বাহিনী, সীমান্তে, বরফের পাহাড়ে, ঝলসে দেওয়া রোদের মধ্যে, সাগরে, আকাশে প্রতিকূল প্রাকৃতিক পরিবেশে সাহস ও সতর্কতার সঙ্গে দেশের সুরক্ষায় নিয়োজিত থাকে। তাঁরা বহির্শত্রুদের থেকে দেশকে নিরাপদ রেখে আমাদের স্বাধীনতা সু-নিশ্চিত করেন। আমরা যখন তাঁদের জন্য উন্নততর অস্ত্র-শস্ত্রের ব্যবস্থা করি, নিজের দেশেই তাঁদের জন্য প্রতিরক্ষা সামগ্রীর সরবরাহ-শৃঙ্খল বিকশিত করি, সৈনিকদের কল্যাণে বিভিন্ন সুবিধে প্রদান করি, তখন আমরা আমাদের স্বাধীনতা সংগ্রামীদের স্বপ্নের ভারত তৈরী করি।


 


আমাদের পুলিশ ও আধা সেনাবাহিনী অনেক ধরনের সমস্যার মুখোমুখি হয়। তাঁরা সন্ত্রাসবাদের মোকাবিলা করেন, অপরাধ নিয়ন্ত্রণ ও আইন-শৃঙ্খলা বজায় রাখেন, একইসঙ্গে, প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের সময় তাঁরা আমাদের সবাইকে ভরসাও যোগান ।


আমাদের সমাজে মহিলাদের এক বিশেষ ভূমিকা আছে। নানা দিক থেকে মহিলাদের আরও ব্যাপক স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে পারাতেই দেশের স্বাধীনতার আসল সার্থকতা। এই সার্থকতা, ঘরের মধ্যে মা, বোন, মেয়ে হিসেবে এবং বাইরে নিজেদের ভাবনা অনুযায়ী জীবনযাপন করার স্বাধীনতায়ও খুঁজে নেওয়া যেতে পারে। নিজেদের ইচ্ছেমত বাঁচা, নিজেদের ক্ষমতা অনুযায়ী কাজ করতে পারার মত নিরাপদ পরিসর ও সুযোগ তাঁদের পাওয়া উচিৎ। তাঁরা নিজেদের ক্ষমতার প্রয়োগ ঘরে করবেন না বাইরে উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে করবেন, সেই বিকল্প বাছাইয়ের পূর্ণ স্বাধীনতা তাঁদের থাকতে হবে। এক দেশ ও সমাজ হিসেবে আমাদের এটাই সুনিশ্চিত করতে হবে, যাতে মহিলাদের জীবনে এগিয়ে যাওয়ার সমস্ত অধিকার ও ক্ষমতা সহজলভ্য হয়।



আমরা যখন মহিলা পরিচালিত কোন উদ্যোগ বা স্টার্ট-আপের জন্য আর্থিক সহায়তা প্রদান করি, কোটি কোটি ঘরে রান্নার গ্যাসের সংযোগ পৌঁছাই, এবং এভাবেই মহিলাদের ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করি, তখন আমরা আমাদের স্বাধীনতা সংগ্রামীদের স্বপ্নের ভারত গড়ে তুলি।




আমাদের তরুণ বন্ধুরা, ভারতের আশা-আকাঙ্ক্ষার মূল ভিত্তি। আমাদের স্বাধীনতা সংগ্রামে নবীন ও প্রবীণ সবারই সমান অংশিদারিত্ব ছিল। কিন্তু সেই লড়াইতে উদ্দীপনা যোগানোর মূল কাজটাই করেছেন তরুনরা। রাস্তা আলাদা হলেও স্বাধীন, উন্নত ও সক্ষম ভারত গড়ার আদর্শে তাঁরা কিন্তু স্থির ছিলেন।


 


আমরা আমাদের তরুণদের কৌশল বিকাশের জন্য, প্রযুক্তি, কারিগরি ও উদ্যোগের জন্য বা শিল্প ও সঙ্গীতের ক্ষেত্রে প্রেরণা যোগাই। তাঁদের সঙ্গীত সৃষ্টি থেকে শুরু করে মোবাইল অ্যাপ তৈরী করা এবং ক্রীড়া প্রতিযোগিতায় সেরা ফলাফলের জন্য উৎসাহিত করি। এভাবে আমরা যখন তরুণদের প্রতিভা বিকাশে সাহায্য করি, তখন আমরা আমাদের স্বাধীনতা সংগ্রামীদের স্বপ্নের ভারত গড়ে তুলি।


 Independence Day Bengali Speech


আমি দেশ গঠনের সামান্য কয়েকটি মাত্র উদাহরণ দিলাম। এরকম অনেক উদাহরণ দেওয়া যায়। আসলে, চিকিৎসক, শিক্ষক, কারখানার কর্মী, ব্যবসায়ী, বয়স্ক মা-বাবার দেখভাল করেন এমন মানুষজন, যাঁরা নিষ্ঠার সঙ্গে নিজের কাজটা করেন, সমাজে নৈতিকতাপূর্ণ অবদান রাখেন - তাঁরা সবাই নিজের মত করে দেশেরই সেবা করেন। স্বাধীনতা সংগ্রামের আদর্শ পালন করেন। এই সমস্ত নাগরিক, নিজের কর্তব্য ও দায়িত্ব পালন করেন, নিজেদের প্রতিশ্রুতি পালন করেন, তাঁরাও স্বাধীনতা সংগ্রামের আদর্শ পালন করেন। আমি এটাই বলতে চাই, আমাদের দেশের নাগরিক সারিবদ্ধ ভাবে দাঁড়িয়ে যখন নিজের সুযোগ আসার অপেক্ষায় থাকেন, নিজের সামনে দাঁড়িয়ে থাকা মানুষটির অধিকারকে সম্মান করেন, তাঁরাও আমাদের স্বাধীনতা সংগ্রামীদের স্বপ্নের ভারত গড়ে তোলেন। এ তো এক খুব ছোট্ট প্রয়াস। আসুন চেষ্টা করি, একে আমরা সবাই আমাদের জীবনের অংশ করে তুলি।




আমাদের দেশের যুবসমাজের মধ্যে আদর্শবাদ ও উৎসাহ দেখে আমার সন্তুষ্টির অনুভব হয়। তাদের মধ্যে নিজের জন্য, নিজের পরিবারের জন্য, সমাজের জন্য ও নিজের দেশের জন্য কিছু-না-কিছু অর্জন করার ভাবনা দেখা যায়। নৈতিক শিক্ষার এর থেকে উত্তম উদাহরণ আর কিছুই হতে পারে না। শিক্ষার উদ্দেশ্য শুধুমাত্র ডিগ্রি বা ডিপ্লোমা পেয়ে যাওয়াই নয়, সবার জীবনকে আরও উন্নত করার ভাবনাকে জাগিয়ে তোলাও। এ ধরনের ভাবনা থেকেই সংবেদনশীলতা ও সৌভ্রাতৃত্বের উৎসাহ পাওয়া যায়। এটাই হচ্ছে ভারতীয়ত্ব। এটাই ভারত। এই ভারত দেশ ‘আমাদের সমস্ত ভারতবাসীর’, শুধুমাত্র সরকারের নয়।


 স্বাধীনতা দিবস উদযাপন


একজোট হয়ে, আমরা ‘ভারতবাসী’ নিজের দেশের প্রত্যেক নাগরিককে সহায়তা করতে পারি। একযোগে আমরা বন ও প্রাকৃতিক ঐতিহ্যের সংরক্ষণ করতে পারি, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য আমরা আমাদের স্মৃতিসৌধগুলির রক্ষাকবচ হতে পারি, আমরা আমাদের গ্রাম ও শহরের আবাসস্থলের পুনর্নবীকরণ করতে পারি। আমরা সবাই দারিদ্র্য, অশিক্ষা ও অসাম্য দূর করতে পারি। আমরা সবাই মিলে এই সমস্ত কাজ করতে পারি, আর আমাদেরকে এগুলো করতেই হবে। এইসব ক্ষেত্রে সরকারের একটা প্রধান ভূমিকা থাকে, কিন্তু একমাত্র ভূমিকা নয়। আসুন আমরা আমাদের প্রয়াসকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য সরকারের কর্মসূচি ও প্রকল্পগুলির সম্পূর্ণ ব্যবহার করি। আসুন দেশের কাজকে নিজের কাজ মনে করি, এই ধারণাই আমাদেরকে প্রেরণা যোগাবে।


 


এই কথাগুলি বলে, আমি আবারও একবার আপনাদের এবং আপনাদের পরিবারের সদস্যদের স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে হৃদয় থেকে অভিনন্দন জানাই এবং আপনাদের স্বর্ণোজ্জ্বল ভবিষ্যতের জন্য অনেক অনেক শুভকামনা জানাই।


Tags - Independence Dayস্বাধীনতা দিবস

স্বাধীনতা দিবসের বক্তব্য (কিছু কথা) 2020 - Independence Day Bengali Speech স্বাধীনতা দিবসের বক্তব্য (কিছু কথা) 2020 - Independence Day Bengali Speech Reviewed by Bongconnection Original Published on August 12, 2020 Rating: 5

No comments:

Wikipedia

Search results

Powered by Blogger.